আমার প্রাণের বন্ধুরা,
কেমন আছিস তোরা?
অনেকদিন ধরে ভাবছি তোদেরকে লিখবো। কলম হাতে নিয়েও কতবার থেমে গেছি, হাত কাঁপছে, চোখ ভিজে উঠছে অজান্তেই। কি লিখবো? কোত্থেকে শুরু করবো?
দেখতে দেখতে কেটে গেছে পুরো ২৫টা বছর। সময় যেন আমাদের জীবনের পাতা উল্টাতে উল্টাতে কোথায় নিয়ে গেল, টেরই পেলাম না। সময় আমাদের অনেক দূরে নিয়ে গেছে। আজ হঠাৎ করেই পুরনো দিনের কত স্মৃতি মনে পড়ছে। সেই হাসি, সেই দুষ্টমি, একসাথে স্বপ্ন দেখা—জীবনের সবচেয়ে নির্মল আর নির্ভেজাল সময় ছিল ওই দিনগুলো। তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কত পরিকল্পনা করতাম। কে কোথায় যাবো, কি হবো—সব যেন একসাথে ভেবে নিতাম। অথচ জীবন আমাদের আলাদা পথে নিয়ে গেল।
হৃদয়ের এক কোণে তোরা সবাই ঠিকই আগের মতই রয়ে গেছিস। জানিস, জীবনের এই দীর্ঘ পথ চলায় অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে, অনেক সম্পর্ক এসেছে-গিয়েছে, কিন্তু তোদের জায়গাটা কখনো কেউ নিতে পারিনি। কারণ তোরা শুধু বন্ধু নস, তোরা আমার জীবনের শেকর—যেখান থেকে আমাদের শুরু হয়েছিল, মানুষ হয়েছি। জীবন এখন অনেক ব্যস্ত। দায়িত্ব, পরিবার, কাজ—সবকিছুর মাঝে সময় বের করা সহজ নয়।
খুব ইচ্ছে করছে আবার একদিন আমরা সবাই পাশাপাশি বসি। কোনো আয়োজনের দরকার নেই, কোনো চাকচিক্য নয়, শুধু আমরা, আমাদের গল্প আর কিছু না বলা কথার হিসাব। ২৫ বছরে জমে থাকা কথা একদিনে শেষ হবে না জানি, তবুও শুরুটা তো হোক। খুব সাধারণ একটা দিন, হয়তো স্কুলের এককোনে বসে এক কাপ চা—কিন্তু সেই মুহূর্তটা হবে আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ।
হয়তো আমাদের চুলে পাকা রং লেগেছে, চোখে এসেছে অভিজ্ঞতার ছাপ, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভিতরের সেই মনগুলো আজও আগের মতই আছে। ঠিক যেন টিফিনের টাইমে সিঙ্গারায় কামড় দিতে দিতে গল্পের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া। সেই রেইনট্রিতলা আর অলস সময় পার করতে করতে মহাবটতলায় এসে ভিড় জমানো। শুধু একবার দেখা হলেই সময় যেন থমকে দাঁড়াবে।
বন্ধুত্ব কখনো পূরণ হয় না, শুধু সময়ের ধুলো একটু চাপা পড়ে যায়। এসো, আবার সেই ধুলো ঝেড়ে আমাদের বন্ধুত্বকে নতুন করে জীবন্ত করি। এই জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুত্বের জন্য একটু সময় রাখি। কারণ কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলোকে আবার ছুয়ে না দেখলে মন পূর্ণ হয় না।
এই ডিসেম্বরেই -
তোদের অপেক্ষায় থাকবো।
তোদেরই বন্ধু আমি...লিমন।